বাংলাদেশের উইকেট উৎসব

70

সেঞ্চুরিয়নে উইকেট উৎসব চলছে বাংলাদেশের। একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে চাপে রেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। সবশেষ ব্যাটার হিসেবে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস।

আজ (বুধবার) সেঞ্চুরিয়নে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা প্রোটিয়াদের সংগ্রহ ২৫ ওভারে ৬ উইকেটে ১০৭ রান।

তৃতীয় ওয়ানডেতে শুরুটা ভালোই করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭ ওভারে উইকেট না হারিয়ে তুলে ফেলে ৪৬ রান। কিন্তু কুইন্টন ডি কককে ফিরিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ রাশ টেনে ধরার পর জোড়া আঘাতে স্বাগতিকদের বিপদে ফেলেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তুলে নেন কাইল ভেরিয়েনে ও আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলতে থাকা জানেমান মালানের উইকেট। পরে সাকিব আল হাসান উইকেট উৎসবে যোগ দিলে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। এখানেই শেষ নয়, খানিক পর শরিফুল ইসলাম উইকেটের খাতা খুললে বিপদ বাড়ে প্রোটিয়াদের। ৮৩ রানে হারায় ৫ উইকেট।

শরিফুল প্রথম ওভারে প্রোটিয়াদের বিপদে ফেলার চেষ্টা করলেও রিভিউ নষ্ট করেছেন। দ্বিতীয় বলটি ব্যাটের খুব কাছ দিয়ে যাওয়ায় শরিফুল মনে করেন, ব্যাট ছুঁয়ে গেছে। তামিম ইকবালকে রিভিউ নিতে ‘বাধ্য’ করেন। কিন্তু রিভিউতে দেখা গেছে বল ব্যাটেই লাগেনি!

তৃতীয় ওভারে এই শরিফুলেরই দারুণ লেংথ বল বাতাসে ভাসিয়ে খেলেছিলেন ডি কক। কিন্তু বল ফিল্ডারের কাছে যাওয়ার আগেই মাটিতে ড্রপ খায়। এরপর সময় গড়ানোর সঙ্গে হাত খোলা শুরু করেন মালান। মেরে খেলতে থাকেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে বোলিংয়ে আনা হয় অফ স্পিনার মিরাজকে। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ব্রেক থ্রুও এনে দেন তিনি। আগের বলে চার মারা ডি কককে বানিয়েছেন মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঝড় তোলা প্রোটিয়া ব্যাটার ফিরেছেন মাত্র ১২ রানে।

প্রথম উইকেট পড়ার পর বাক্সবন্দি হয়ে পড়েন মালান। শুরুর আগ্রাসনটা কমিয়ে তার ইনিংস গড়ার পথে কাইল ভেরিয়েনে সঙ্গী হতে চাইলেও তাকে থিতু হতে দেননি তাসকিন। বল ব্যাটের কানায় লেগে আঘাত হানে ভেরিয়েনের স্টাম্পে। তার আগে এই ব্যাটার এক চারে করতে পারেন ৯ রান। প্রোটিয়াদের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন তাসকিন। শুরুতে আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলা মালানকে দারুণ এক ডেলিভারিতে গ্লাভসবন্দি করিয়েছেন তিনি। তাতে ৫৬ বলে ৭ চারে ৩৯ রানে শেষ হয় মালানের ইনিংস।

এরপর সাকিব ক্রিজে আসা তেম্বা বাভুমাকে এলবিডব্লিউতে ফেরালে ভীষণ চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। প্রোটিয়া অধিনায়ক রিভিউ নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। আউট হয়েছেন মাত্র ২ রান করে।

কঠিন চাপে পড়া প্রোটিয়াদের আশা হয়ে বেঁচে ছিলেন তখন ফন ডের ডুসেন ও ডেভিড মিলার। সেঞ্চুরিয়নের ‍প্রথম ওয়ানডেতেও বিপদের মুহূর্তে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু এবার আর হয়নি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে ধারাবাহিক পারফর্ম করতে থাকা ফন ডের ডুসেন পারেননি। তাকে বেশিদূর যেতে দেননি শরিফুল। এই বাঁহাতি পেসারের অপ্রত্যাশিত বাউন্সারে খেই হারিয়ে মিরাজকে সহজ ক্যাচ দিয়ে মাত্র ৪ রানে বিদায় নেন প্রোটিয়া ব্যাটার।