মাসদাইরের গৃহবধূ নিহতের ঘটনায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক 
ফতুল্লার মাসদাইরে গৃহবধূ মারিয়া আক্তার নিহতের ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে নিহতের স্বামী রিফাতসহ চারজন কে আসামী করে শনিবার ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে। 
মামলার আসামীরা হলো  মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার আউটশাহী গ্রামের লিটন শেখের পুত্র ও ফতুল্লা মডেল থানার মাসদাইর ছোট কবরস্থানের শাহাদাতের বাড়ীর চতূর্থ তলার ভাড়াটিয়া নিহত মারিয়া আক্তারের স্বামী রিফাত(২১),নিহতের দেবর আশরাফুল (১৮),নিহতের শ্বাশুড়ি আনেয়ারা বেগম(৫০) সহ নিহতের স্বামীর বোন জামাই সাহেদ বাবু(২৫)। এর আগে পুলিশ শুক্রবার বিকেল মামলার এজাহার নামীয় তিন আসামী নিহতের স্বামী রিফাত, শ্বাশুড়ি আনোয়ারা বেগম ও দেবর আশরাফুল কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের এজাহারনামীয় তিন আসামীর মধ্যে নিহতের স্বামী রিফাত ও দেবর আশরাফুল কে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে  এবং শ্বাশুড়ি আনোয়ার বেগম কে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে  শনিবার আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত মারিয়া আক্তারের মা ও মামলার বাদী রহিমা বেগম জানায়, তার স্বামী শহীদ মীর দুবাই প্রবাসী। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে বড় মেয়ে মারিয়া আক্তার ছোট। গত চার মাস পূর্বে  পালিয়ে গিয়ে একই জেলার টঙ্গিবাড়ী থানার আউশাহি গ্রামের মালেয়শিয়া প্রবাসী মোঃ লিটনের পুত্র রিফাত কে প্রেম করে বিয়ে করে তার মেয়ে মারিয়া আক্তার। সে সময় রিফাতের মা,বোন,বোন জামাই সহ পরিবারের সদস্যরা তার মেয়েকে নিয়ে তাদের বাসায় গিয়ে বলে যে মারিয়া তাদের রিফাতের সাথে পালিয়ে গেছে এবং বিষয়টি মেনে নেয়ার জন্য তাদের অনুরোধ করে।তখন তারা মেয়ে মারিয়া আক্তার কে রেখে দিতে চাইলে রিফাতের মা,বোন অনেকটা জোর পূর্বক মারিয়া কে নিয়ে তাদের বাসা থেকে চলে আসে। পরবর্তীতে তারা বিয়ের কথা জানতে পেরে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিষয়টি মেনে নেয়। বিয়ের পর থেকেই রিফাত তার মা এবং ভাই কে বোন ও বোন জামাইয়ের সাথে মাসদাইর ছোট কবরস্থান সংলন শাহাদাতের পাঁচতলা বিল্ডিংয়ের চতূর্থ তলার ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলো।বিয়ের পর বাদী তার কয়েকজন স্বজনদের সাথে নিয়ে মেয়ে মারিয়া কে দেখতে আসলে এবং রিফাত সহ মেয়েকে নিজেদের বাসায় নিয়ে  বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসলে তাদের সকলের সাথে খুবই খারাপ আচরন করে রিফাত ও তাদের পরিবারের অপর সদস্যরা। তাদেরকে সেদিন বাসা থেকে লাঞ্জিত করে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে মেয়ে মারিয়ার সাথে তাকে দেখাতো দুরের বিষয় কথাটকু পর্যন্ত বলতে দিতোনা। মেয়ের সাথে কথা বলার জন্য মোবাইল কিনে পাঠিয়ে দেওয়া হলে ও সেই মোবাইল তার মেয়েকে ব্যবহার করতে দেওয়া হতোনা। বিয়ের পর থেকেই সামান্য কিছু হলেই তার মেয়েকে নির্যাতন করতো স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ীর লোকজন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতেও তার মেয়ে মারিয়া কে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।পরে তা আত্নহত্যা বলে প্রচার করে হত্যা করার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু  তিনি সহ বাসায় গিয়ে পুলিশ দরজা ও দরজা- জানালার পর্দাতে রক্তের দাগ দেখতে পায়। তিনি আরো বলেন শুক্রবার ভোর রাত চারটার দিকে তার মেয়ের স্বামীর বোন জামাই সাহেদ বাবু তাদের এক নিকটাত্নীয়কে ফোন করে জানায় যে সিড়ি থেকে পরে গিয়ে তার মেয়ে মারিয়া আহত হয়ে হাসপাতালে আছে। তারা তা জানতে পেরে ছুটে আসেন জেনারেল( ভিক্টোরিয়া)  হাসপাতালে। সেখান  এসে তারা শুনতে পান তার মেয়েকে ডাক্তার পরীক্ষা করছে।দীর্ঘ ত্রিশ মিনট পরে ও তার মেয়েকে তারা দেখতে না পেয়ে দেখার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে জানতে পারেন যে তার মেয়ে মারা গেছে। এ সময় কৌশলে হাসপাতাল থেকে তার মেয়ের জামাই রিফাত চলে যায়।পরে পুলিশ মাসদাইরের বাসায় এসে রিফাত কে আটক করে।
ফতুল্লা মডেল থানার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান জানান, গৃহবধু মারিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি শুরুতেই হত্যাকান্ড বলে মনে হয়েছিলো। পুলিশ মোটামুটি নিশ্চিত হয়েই ঘটনার পরপর শহরের জেনারল( ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল ও মাসদাইরে অভিযান চালিয়ে নিহতের স্বামী,দেবরও শ্বাশুড়ি কে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। নিহতের মা আজ(শনিবার)  বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ্য করে মামলা দায়ের করেছে। তিনজন কে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এজাহারনামীয় অপর একজনকে গ্রেফতার অভিযান অব্যহাত রয়েছে বলে তিনি জানান।