ফতুল্লায় শ্রমিক খুনের ঘটনায় একজন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফতুল্লায় সুপার স্টার বাল্ব কারখানার শ্রমিক লিটন হত্যাকান্ডেসজিব দাসকে (২০) গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত সজিব দাস(২০) হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার খিলাল নগরের সুনিল চন্দ্র দাসের পুত্র। 

শনিবার রাত সোয়া দশটায় ফতুল্লা থানার রামারবাগ চৌরাস্তা সংলগ্ন  মাসুমের গোডাউনের সামনের রাস্তায়। বেটে(খাটো) বলে সম্বোধন করা কে কেন্দ্র করে সুপার স্টার বাল্ব কারখানার ভিতরে প্রথম দ’ফায় সংঘর্ষে জড়ায় মান্না ও সজিব। কতৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করে উভয়কে তখন শান্ত করে। পরবর্তীতে রাতে ছুটির পর মান্না ও সজিব বহিরাগতদের আগমন ঘটিয়ে কারখানার বাইরে রামারবাগস্থ চৌরাস্তায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এ সময় একই কারখানার শ্রমিক  লিটন সরকার (২৮) তার এক সহোযোগি কে নিয়ে পায়ে হেটে বাসায় যাবার পথে উভয় গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যে পরে যায়। এ সময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পরাদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয় লিটন সরকার। নিহত লিটন সরকার হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ থানার বাকাহাটি পাহাড়পুরের সুকুমার সরকারের পুত্র ও ফতুল্লা থানার লালাখাঁ এলাকার সামছুজ্জামানের বাড়ীর ভাড়াটিয়া। 

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী  শিখা রানী (২০)বাদী হয়ে চার জনের নাম উল্লেখ্য সহ অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জনকে আসামী করে রোববার সন্ধ্যায় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে। 

মামলায় উল্লেখ্য করা হয় যে,বাদী এবং তার নিহত স্বামী লিটন সরকার উভয়েই  ফতুল্লা থানার রামারবাগস্থ সুপার স্টার বাল্ব কারখানায় কাজ করে আসছিলো। শনিবার কাজ করার সময় একই কারখানায় কর্মরত মান্না দাস অপর শ্রমিক সজিব দাস কে বেটে(খাটো) বলে সম্বোধন করে। এতে সজিব ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে উভয়ের মাঝে বাকবিতন্ডতার পাশাপাশি হাতাহাতিতে রুপ নেয়।তবে কারখানার কর্তাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিমাংসার পাশাপাশি উভয় শান্ত হয়। কারখানার ছুটি হলে বাদী তার স্বামীকে বাসায় যাবার জন্য তাগিদ দিলে সে জানায় যে তার এক সহোযোগির সাথে সে কিছুক্ষন পর বাসায় ফিরছে। ফলে বাদী বাসায় একা চলে আসে। কিছুক্ষন পর বাদীর স্বামী লিটন সরকার তার এক সহোযোগি কে নিয়ে পায়ে হেটে বাসায় ফিরে আসছিলো।অপরদিকে কারখানার ভিতরে ঘটে যাওয়া মান্না ও সজিবের ঝগড়ার ঘটনায় উভয়েই ছুটির পরে বহিরাগতদের নিয়ে রামারবাগ চৌরাস্তা সংলগ্ন মাসুমের গোডাউনের সামনের রাস্তায় দেশীয় তৈরী ধারালো অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এ সময় সহোযোগি কে নিয়ে বাসায় আসাট পথে উভয় গ্রুপের সংঘর্ষের মাঝে পরে যায় বাদীর স্বামী লিটন সরকার। এতে লওটন সরকার সংঘর্ষকারীদের ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান জানান, নিহত লিটন সরকার হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে চার জনের নাম উল্লেখ্য সহ অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জনকে আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারনামীয় আসামী সজিব কে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।জড়িত অপর আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।