ফতুল্লায় কিস্তির চাপে দিশেহারা সাধারন মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চলমান লকডাউনেও থেমে নেই ফতুল্লায় বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ও অর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কিস্তি আদায়ের কাজ। লকডাউনে কর্মহীন মানুষকে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে নানা ভাবে চাপ প্রয়োগ করার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

যদিও চলমান লকডাউনের আগে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে করে সব ধরনের সরকারী-বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার নিদের্শ দিয়েছে। কিন্তু এনজিও সংস্থাসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের নিষেজ্ঞাকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে মাঠ পর্যায়ে তাদের কিস্তি আদায়ের কাজ অব্যাহত রেখেছে। ফলে ঋণগ্রস্ত সাধারন মানুষ মানষিক চাপ নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। চলমান লকডাউনে সরকারের নিষেজ্ঞা উপেক্ষা করে যে সমস্ত এনজিও কিংবা আর্থিকি প্রতিষ্ঠান ঋণের টাকা আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে সচেতন মহল।

পরিবহনশ্রমিক ফজলুল হক বলেন, ‘চাইল কেনার চিন্তার চাইতে এহন কিস্তি শোধের চিন্তা বেশি হয়া দাঁড়াইছে। দুইডা এনজিওর থ্যা ৪০ হাজার টাকা নিয়্যা এহন কিস্তি শোধ করব্যার পারত্যাছি না। কিস্তির অফিসাররা কিস্তি নেওয়ার জন্নে বাড়িত আইস্যা বইস্যা থাকে। তাঁরা যতক্ষণ বাড়িত থাকে ততক্ষণ পলায়া থাকা লাগে।’

নূরুন্নাহার নামের এক নারী জানান, একটি এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁর স্বামী  কাজ করে কিস্তি শোধ করতেন। লক ডাউনের কারণে দু-তিন সপ্তাহ ধরে তাঁর কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে সংসার অচল হওয়ার পাশাপাশি কিস্তিও বাকি পড়ে গেছে। এনজিওকর্মীদের কিস্তি শোধ করতে আমরা হিমসিম খাচ্ছি।

প্র্রসঙ্গত, চলমান লকডাউনে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে হাসপাতাল ও ক্লিনিক, দমকল বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের মতো সেবা প্রতিষ্ঠান, ওষুধের দোকান, মুদি দোকান, কাঁচাবাজার ইত্যাদি। এর বাইরে শিল্পকারখানা খোলা থাকবে। তবে শিফট অনুযায়ী সেখানে শ্রমিকরা কাজ করবে। সীমিত আকারে খোলা রয়েছে ব্যাংক।