ফতুল্লায় র্ধষণ চেষ্টার মূল হোতা গ্রেফতার

16

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফতুল্লায় ছোট বোনকে ধর্ষণের চেষ্টায় বাধা দেয়ায় বড় বোনকে ছুরিকাঘাতে আহত করার ঘটনার মূলহোতা কিশোর গ্যাং লিডার জীবনকে (২০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ফতুল্লা থানার দাপা ইদ্রাকপুর শিহাচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জীবন ওই এলাকার কবির হোসেনের ছেলে।

র‌্যাব-১১ এর সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জীবন এক গার্মেন্টস কর্মীর ছোট বোনকে দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে উত্যক্ত করতো এবং কুপ্রস্তাব দিত। এরই ধারাবাহিকতায় জীবন গত ১২ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের কিশোর গ্যাং সদস্যকে নিয়ে ওই গার্মেন্টস কর্মীর বাসায় ঢুকে তার ছোট বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় গার্মেন্টসকর্মী বড় বোন বাধা দিলে জীবন তাকে ছুরিকাঘাতে আহত করে পালিয়ে যায়।

আহত গার্মেন্টকর্মী বলেন, রোববার রাত সাড়ে ৯টার সময় জীবন ও লাদেনসহ প্রায় ১০/১৫ জন কিশোর আমাদের বাসায় আসে। তাদের কারও বাবার নাম জানি না। তবে আমাদের এলাকায় তারা কিশোর অপরাধী হিসেবে পরিচিত। তারা যখন আমাদের বাসায় আসে তখন আমি গার্মেন্টস থেকে বাসায় এসেছি। কিশোররা এসেই আমাদের ঘরে প্রবেশ করে প্রথমে জীবন আমার ছোট বোনকে জরিয়ে ধরে খাটে ফেলে দেয়। তখন আমি চিৎকার করে জীবনকে ধাক্কা দিয়ে বোনকে জরিয়ে ধরি। এ সময় তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরপর বোনকে টেনেহেঁচড়ে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা। তখন আবারও আমি তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে জীবন আমার পেটে কয়েকটি ছুরিকাঘাত করে দলবল নিয়ে চলে যায়।

এ সময় আমার মা, বোন ও ছোট ভাইসহ আশপাশের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) নিয়ে যায়। সেখান থেকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক আঘাতের স্থানে ১৮টি সেলাই দিয়ে একদিন ভর্তি রাখেন।

তার মা বলেন, আমরা গরিব আর ওই সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টারে চলে। আমরা তাদের সঙ্গে কিছুতেই পারবো না। এলাকাবাসী শুনেও ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করেনি। যদি প্রশাসন বিচার করে তাহলে সন্ত্রাসীদের ফাঁসি চাই। আর যদি বিচার না পাই তাহলে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় চলে যাবো।