‘চাইলেই মানবসেবা করা যায় নাইচ্ছেটা অন্তর থেকে আসে’ ———–আহসান

36

আমাদের নারায়ণগঞ্জঃ আল হোসাইন(ববি)নিজস্ব প্রতিবেদক কোন স্বার্থ নয়, শুধুমাত্র মানবতার টানে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই করোনা মহামারীতে ১৬ নং ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের সেবায় দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন অাহসান অাল হোসাইন (ববি)।  করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফন থেকে শুরু করে আক্রান্ত ব্যক্তির সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত এবং টেলিমেডিসিন সেবার মতো প্রশংসনীয় কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন আহসান আল হোসাইন (ববি)ও তার স্বেচ্ছাসেবী টিম “টিম বি  ৭”। করোনার ভয়াল থাবা থেকে বাঁচতে যেখানে নিজেদের সুরক্ষায় ব্যস্ত অনেকেই, সেখানে ঝুঁকি নিয়ে কেন নিজেকে মানবসেবায় জড়িয়ে নেন আহসান আল হোসাইন (ববি) , একান্ত সাক্ষাৎকারে সেই প্রশ্নের উত্তর তুলে ধরেন তিনি। বললেন মানুষ হিসেবে মানবতার টানেই এই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
অাহসান অাল হোসাইন (ববি) এ প্রতিবেদককে জানান, করোনাকালের শুরু থেকে আমরা অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে আসছি। ইতিমধ্যেই আমরা ৩ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি।লকডাউনের শুরুর দিকে অামরা অসহায় কর্মহীন ১২০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেছি,এবং বিগত রোজা ও ঈদে অামরা ১৬ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় অসহায় ১৪০০ পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার সহ ঈদ সামগ্রী বিতরন করি।সাম্প্রতি নিজের অর্থায়নে রোটারি ক্লাব অব নারায়ণগঞ্জের সহোযোগিতায় ৩০০ সনাতন ধর্মালম্বীদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরন করা হয়। এছাড়াও  ঈদের সময়ে লকডাউনের করনে কর্মহীন হয়ে পরা প্রায় ৫০ টি মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে নগদ সহায়তা করা হয়, বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে ২০০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল।তিনি আরো জানান,নারায়ণগঞ্জের একটি জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ “নারায়ণগঞ্জ স্থান” এর একটি খাদ্য বিতরন কর্মসূচিতে নগদ সহায়তা করেন।এছাড়াও করোনার সংক্রমণ রোধে স্থানীয়দের মাঝে ১০ হাজার মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান ও লিফলেট বিতরণের মতো সচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। আমি কারো অনুদানের আসায় বসে থাকিনি। নিজের যা সামর্থ্য তা থেকেই মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করছি। তবে আমার এ কাজে মুজাফফর অালী ফাউন্ডেশন, রোটারি ক্লাব অব নারায়ণগঞ্জ, এবং uk এর একটি সংগঠন আঙ্গুরা ফাউন্ডেশন বিভিন্নভাবে সহোযোগিতা করেছে সেজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
লাশ দাফনের চিন্তা কিভাবে মাথায় এলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি বিষয় আমাকে খুব মর্মাহত করলো যখন শুনলাম সংক্রমণের ভয়ে আপনজনের লাশ সৎকারে অনীহা প্রকাশ করেছে স্বজনরা। দেখলাম সবাই ত্রাণ নিয়ে ব্যস্ত অথচ লাশ দাফনে কঠিন পরিস্থিতি। তখনই উদ্যোগ নিলাম লাশ দাফনে নিজস্ব কিছু লোকবল নিয়ে টিম গঠনের। মানবিক দিক বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেই। যার ধারাবাহিকতায় “টাইম টু গিভ” এর সাথে সম্মিলিত ভাবে লাশ দাফনের জন্য “টিম বি৭” গঠন করা হয়েছে এবং এই স্বেচ্ছাসেবী টিমের মাধ্যমে এখনো পর্যন্ত ৪টি লাশ সৎকার করা হয়েছে।এবং অামাদের এই লাশ দাফন কার্যক্রম শুধুমাত্র ১৬ নং ওয়ার্ডেই সীমাবদ্ধ নয়,পুরো নায়ারণগঞ্জেই এই কর্মকাণ্ড চলমান থাকবে। লাশ দাফনের জন্য অামাদের দুটি হটলাইন নম্বার অাছে,”০১৮৯০৯০৫৯০৭,০১৩১৮৫৪৫৬৪৫” নারায়ণগঞ্জের যেখানেই  হোক আমাদের কাছে লাশ দাফনের খবর আসলে আমারা পৌছে যাব।আহসান আল হোসাইন (ববি) আরো বলেন,লাশ দাফনের জন্য সঠিক কিছু নিয়মাবলি আছে,সঠিক সুরক্ষাব্যবস্থা জানা থাকলে লাশ দাফনে কোন সমস্যা হবে না।তাই যারা লাশ দাফনে আগ্রহী তাদের জন্য সঠিক ট্রেনিং ও সুরক্ষাসামগ্রীর ব্যবস্থা করবেন বলে জানান তিনি।

 আহসান আল হোসাইন (ববি) আরো  বলেন, “টাইম টু গিভ” এই ফেসবুক পেজের মাধ্যমে করোনাকালে মানবসেবায় একনিষ্ঠ ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা কেবল করোনায় মৃত লাশ সৎকারই নয়, অসহায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সঠিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত, তাদের টেলিমেডিসিন সেবা প্রদান এবং কারো করোনার লক্ষণ দেখা দিলে তাকে করোনা পরিক্ষা করতে সহযোগিতা করছি। ইতিমধ্যে অামরা মুজাফফর আলী ফাউন্ডেশন ও নায়ারণগঞ্জ ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সাভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনর (বিএমএ) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরীর সাথে সম্মিলিত ভাবে একটি আইসোলেশন সেন্টার চালু করার পরিকল্পনা হচ্ছে। খুব শীগ্রই এই আইসোলেশন শেন্টার উদ্বোধন করা হবে।
এই কাজে নিজের অনুভূতি জানতে চাইলে  আহসান আল হোসাইন (ববি) আরো জানান, চাইলেই মানবসেবা করা যায় না। এই ইচ্ছেটা অন্তর থেকে আসে। আমি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের সাথে কাজ করে আসছি।সর্বপ্রথম ২০১৪ সালে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের যুদ্ধে আহত ফিলিস্তিনিদের জন্য,ফিলিস্তিন দূতাবাসে গিয়ে আর্থিক সহায়তা দেই,এভাবেই আমার পথচলা শুরু।এরপর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর অমানুষিক নির্যাতনের করনে প্রান বাঁচাতে তারা যখন বাংলাদেশে প্রবেশ করে ঠিক তখনই আমরা সেই অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াই। দুই ধাপে ১০ লক্ষ টাকা রোহিঙ্গাদের জন্য নগদ সহায়তা দেওয়া হয়।অামি একজন অষ্ট্রেলিয়ার সিটিজেন।সেখানে অামার বাড়ি,গাড়ি সবই আছে,অষ্ট্রেলিয়ার দূতাবাসের সঙ্গেও কথা হয়েছে অামি চাইলে যেকোন সময়ই বিমানযোগে চলে যেতে পারি।কিন্তুু দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে অামর মন অামাকে সেকাজ করতে দেয়নি।আমি অতীতের মানবিক কাজগুলো থেকে শিখেছি,মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মত শান্তি আর কোথাও নেই। পৃথিবীতে আমরা কেউই চিরস্থায়ী নই। যদি এই ক্ষণিকের আয়ুতে মানুষের জন্য কিছু করে যেতে পারি, তাহলে আমার কর্মফলের জন্য হলেও মৃত্যুর পর মানুষ আমাকে মনে রাখবে।
এসময় তিনি এই মহৎ কাজে সহযোগীতার জন্য স্বেচ্ছাসেবী টিমের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে মুজাফফর আলী ফাউন্ডেশন, রোটারি ক্লাব অব নারায়ণগঞ্জ, এবং uk এর একটি সংগঠন আঙ্গুরা ফাউন্ডেশন,টাইম টু গিভ সহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন  নানাভাবে সহোযোগিতা করেছে, সেজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।