কুতুবপুরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোনঠাসা

139

আমাদের নারায়ণগঞ্জঃ কুতুবপুরের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসী চাঁদ শিকদার সেলিম, মুরাদ, কিলার হাবিবুল্লা,কিলার আক্তার নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে থাকার পর কুতুবপুরে ফিরে এসেই নতুন করে সন্ত্রাসী বাহিনীকে সংগঠিত করে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড লিপ্ত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয়রা জানায়, সদস্য বিদায়ী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পর থেকে এই বাহিনী এলাকায় ফিরে অপ তৎপরতা শুরু করে। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে একের পর এক বিতর্কীত কর্মকান্ডের জন্ম দিচ্ছে। শুরুতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মীরুর বড় ভাই যুবলীগ নেতা আলমগীরকে মারধর করে উল্টো মামলা দিয়ে পুলিশে দিয়েছে বিতর্কীত চাঁদ শিকদার সেলিম। এর পর দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে থাকা সন্ত্রাসীদের এলাকায় ফিরিয়ে এনেয় একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে থাকে। তৎপর হয়ে ওঠে এলাকায় প্রভাব বিস্তারেরও চেষ্টাসহ ডিস,ইন্টার নেটের ব্যবসাও নিয়ন্ত্রণের। ইতোমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেলকে আসামী করে একটি মামলা করে আবারো আলোচনায় আসে সন্ত্রাসী চাঁদ শিকদার সেলিম ও তার বাহিনীর সদস্যরা।

এলাকাবাসী জানায়, চাঁদ সেলিম, খান সেলিম,মুরাদ এক সময় কবরীর ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিল। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে দীর্ঘদিন এলাকায় ফিরে আসতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রোষানলে পরে মীরু এলাকার বাইরে চলে যাওয়ার পর এই সন্ত্রাসীরা ভোল পাল্টিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। আর এই নিয়ে কুতুবপুরে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। যে কোন সময় আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় মহল।

সূত্রমতে, এসপি হারুণ নারায়ণগঞ্জে আসার পর যে ক’জন তার রোষানলে পরেছে হয়রানীর শিকার হয়েছে তাদের মধ্যে মীরু অন্যতম। পুলিশের ভয়ে এলাকার বাইরে চলে গেলেও মীরুর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হতে থাকে। হজে¦ থাকা অবস্থায়ও মীরুর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ফতুল্লা মডেল থানায়। অভিযোগ হয়েছে একাধিক। জেল হাজতে থাকতে হয়েছে মীরুর ভাই-ভাগ্নেকে। এদিকে মীরুর শূণ্যস্থান পূরণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী চাঁদ সেলিম,খান সেলিম,মুরাদ, মীর এক সময়ের সহযোগী হাবিবুল্লা,মীরুকে গুলি করে পঙ্গু করার মূর হোতা কিলার আক্তারের নেতৃত্বে থাকা অপর একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। ইতোমধ্যে মীরুর ডিস এবং ইন্টার নেটের ব্যবসা দখলে বেশ কয়েক বার তৎপরতা চালিয়েছে। এ নিয়ে সম্প্রতি সময়ে সন্ত্রাসী চাঁদ শিকদার সেলিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ হয় ফতুল্লা মডেল থানায়। কিন্তু পুলিশ এসব অভিযোগের কোন গুরুত্ব না দেয়ায় সন্ত্রাসী চাঁদ শিকদার সেলিম বাহিনী আরো বেশী বপেরোয়া হয়ে ওঠে। উল্টো সেলিম মীরু বাহিনীকে ঘায়েল করতে মিথ্যা হামলার নাটক সাজিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেলকে হয়রানীর চেষ্টা করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঁদ সেলিম, খান সেলিম, মুরাদ ও হাবিবুল্লার নেতৃতে বিশাল একটি বাহিনী এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নানা ধরনের সন্ত্রাসীকর্মকান্ডে জড়িয়ে পরেছে। এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ হলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তবে এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।