আটককৃতরা বাড়িতে বসে জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত-মনিরুল ইসলাম

11

আমাদের নারায়ণগঞ্জঃ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শিহারচরের তক্কার মাঠ এলাকার ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে যাদের আটক করা হয়েছে তারা নব্য জেএমবির সদস্য বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

মনিরুল ইসলাম বলেন, আটকরা নব্য জেএমবির সদস্য। অভিযোগের ভিত্তিতে জামাল উদ্দীন রফিককে ঢাকা থেকে আটক করা হয়। পরে জঙ্গি আস্তানা থেকে তার ভাই ও ভাবিকে আটক করা হয়। তারা এ বাড়িতে বসে দেশের জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।

তিনি আরও বলেন, জঙ্গি আস্তানাটি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। সেগুলো নিষ্ক্রিয় করতে বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট কাজ করছে। এখানকার বোমা ও বিস্ফোরকের সঙ্গে সম্প্রতি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া বোমা ও বিস্ফোরকের মিল রয়েছে বলে জানান তিনি।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট প্রধান বলেন, যে বাড়িতে বোমা তৈরি করা হয় সেখানে আগে ছয়টি টিনসেড রুমে ছয়টি পরিবার থাকত। প্রায় ৭ মাস আগে বাড়িতে বহুতল ভবন করার কথা বলে বাড়ির মালিকের ছেলে ভাড়াটিয়াদের সরিয়ে দেন। কিন্তু ভাড়াটিয়াদের সরিয়ে দেয়ার ৭ মাসেও কোনো ভবন করা হয়নি। এ বাড়িতে জঙ্গি সদস্যদের প্রতিনিয়ত আনাগোনা ছিল। এখানে বসে বোমা তৈরি করে দেশের বিভিন্ন এলাকার জঙ্গিদের সঙ্গে দেয়া হতো।

এ সময় পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান, ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা ভোর থেকেই বাড়িটি ঘিরে রাখে। সকালে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও সোয়াট সদস্যরা আসার পর অভিযান শুরু হয়। এ সময় বাড়িটি থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন- বাড়ির মালিক ব্যাংক কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনের দুই ছেলে ফরিদ উদ্দীন ও জামাল উদ্দীন এবং ফরিদ উদ্দীনের স্ত্রী জান্নাতুল ফোয়ারা অনু।

SHARE