ফতুল্লার কুতুবপুরে দুই সেলিম আতঙ্ক

122

আমাদের নারায়ণগঞ্জঃ
কুতুবপুরে নতুন আতঙ্কের নাম সেলিম খান ও চাঁদ সেলিম। গত কয়েকদিন ধরেই ঘুরে ফিরে এই দুই সন্ত্রাসীর নাম আলোচিত হচ্ছে। একের পর এক ঘটনার জন্মদিয়ে আলোচনায় উঠে আসে এই দুই সন্ত্রাসী। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বিতর্কীত ঘটনার জন্ম দিয়েছে তারা। ফলে নতুন করে আতঙ্কিত হয়ে পরেছে কুতুবপুরের বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে এই দুই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগও হয়েছে। সেলিম খান আগে থেকেই ভয়ংকর সন্ত্রাসী হিসেবে কুতুবপুরে বেশ পরিচিত। নতুন করে সেলিম খানের সাথে চাঁদ সেলিমের নাম যুক্ত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই সেলিম নতুন সিন্ডিকেট করে কুতুবপুর নিয়ন্ত্রণে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই দুই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় মহল।


স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, সাবেক সাংসদ কবরীর সময়ে কুতুবপুরে ত্রাস সৃস্টি করে পুরো কুতুবপুরবাসীকে জিম্মী করেছিলো যে ক’জন সন্ত্রাসী তার মধ্যে সেলিম খান অন্যতম। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতে গিয়ে সায়মন নামে এক যুবকে হত্যা করে। এরপর থেকে সেলিম খান পালাতক ছিল। সম্প্রতি এই সেলিম খান এলাকায় ফিরে এসেছে। এলাকায় ফিরে এসেই নতুন করে সন্ত্রাসীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ইতোমধ্যে এলাকায় বেশ কয়েক দফা শোডাউন দিয়ে তার ফিরে আসার বিষয়টি জানান দিয়েছে। অপরদিকে, চাঁদ সেলিমের সাথে যোগ দিয়েছে কুতুবপুর ইউনিয়নের পাগলা বৌ বাজার এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে চাঁদ সেলিম। সেলিম খানের সাথে মিলে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করে যাচ্ছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, বিগত চার দলীয় জোট সরকারের সময় চাঁদ সেলিম ও তার ভাই জসিম অবৈকধ ভিওআইপির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। এছাড়া মাদকের সাথেও তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর আগে চাঁদ সেলিমের ভাই জসিম মাদকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে গ্রেফতার হয়েছিলো বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। গত ২৮ আগস্ট এই দুই সেলিমের নামে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় পঞ্চায়েত ও মসজিদ কমিটির নেতারা। অভিযোগে জানাযায়, প্রথম দফায় গত ২৮ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুতুবপুরের সন্ত্রাসী চাঁদ সেলিম ও সেলিম খানের ক্যাডার শুভ মোবারকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে যায়। দ্বিতীয় দফায় বুধকার সন্ধ্যায় আবারো চাঁদা নিতে আসলে স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং মসজিদ কমিটির সদস্যরা চাঁদাবাজ শুভকে আটক করে। এদিকে শুভকে আটকের সংবাদ পেয়ে সন্ত্রাসী চাঁদ সেলিম ও সেলিম তাদের সহযোগীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি লাল মিয়া শেখ ও পশ্চিম রসুলপুর জামে মসজিদের সাধারন সম্পাদক ইব্রাহীম খানসহ উপস্থিত ব্যাক্তিদের মারধর করে । এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী সেলিম খান সাবেক সাংসদ কবরীর ক্যাডার এবং সায়মন হত্যা মামলার আসামী। এরপর থেকে সেলিম খান পলাতক ছিল। সম্প্রতি সে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন হাওলাদারের সহায়তায় এলাকায় ফিরে এসে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়েছে। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই একই এলাকা এলাকার এক আওয়ামীলীগ নেতার সাথে দীর্ঘদিন যাবত দন্ধ চলছিলো। এর জের ধরে চাঁদ সেলিম তার লোক দিয়ে নিজের বাসায় বোমা ফেলে দিয়ে ওই নেতাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে।


এলাকাবাসী জানায়, চাঁদ সেলিম দীর্ঘদিন এলাকার বাহিরে ছিল। হঠাৎ করে এলাকায় এসে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম শুরু করেছে। এতে এলাকার মানুষ অতিষ্ট হয়ে পরেছে। নতুন করে শুরু করেছে সাধারন মানুষের উপর অত্যাচার। গত সোমবার রাতে তার বাসায় বোমার বিকট সব্দ পাওয়াযায়।শব্দ শুনে এলাকার সকল মানুষ বেড়িয়ে পরে।

পরে শুনি চাঁদ সেলিমের বাসায় কে জেন বোম মেরেছে। এ খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে ঘটনা স্থল পরিদশন করেছে। এ বিষয়ে থানায় কোন মামলা হয়নি। এলাকাবাসী আরো বলেন কেই যদি চাঁদ সেলিমের বাসায় বোমা মারতো তাহলে তিনি অবশ্যই মামলা করতেন। এই বোমা হামলায় কেউ আহত বা নিহত হয়নি। কেউ যদি বোমা মেরে পালানোর চেষ্টা করতো তাহলে এলাকার কারো না কোরো চোঁখে পরতো। আমাদের মনে হয় চাঁদ সেলিম এলাকায় আতংক তৈরি করছে। এমনকি কাউকে ফাসানোর জন্য এমন নাটক করছে। এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন জানান, আমরা সব অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আশার চেষ্টা করছি। আমার থানা এলাকায় অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।

SHARE