ফতুল্লায় র‌্যাবের অভিযানে ধর্ষক ইমাম গ্রেফতার

57

আমাদের নারায়ণগঞ্জ ডটকমঃ ফতুল্লায় এবার মসজিদের ভিতরে ইমামের রুমে মাদ্রাসায় পড়ুয়া দিত্বীয় শ্রেনৗর ছাত্রীকে ধর্ষন করেছে বায়তুল হাফেজ জামে  মসজিদের  ইমাম।শুধু মাত্র ধর্ষন করেই ক্ষান্ত ছিলেন না ধর্ষনকারী। এ ঘটনায় ধর্ষনের শিকার শিশুটির পিতার আভিযোগ পেয়ে র‌্যাব-১১”র এরকটি দল বুধবার সকাল ৬টায় ফতুল্লা থানার চাঁনমারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বায়তুল হাফেজ জামে মসজিদের ইমামসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো বায়তুল হাফেজ জামে মসজিদেরইমাম মো. ফজলুর রহমান ওরফে রফিকুল ইসলাম, মো. রমজান আলী, মো. গিয়াস উদ্দিন, হাবিব এ এলাহী ওরফে হবি, মো. মোতাহার হোসেন ও  মো. শরিফ হোসেন। র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব জানায়, নির্যাতনের শিকার শিশুটির বয়স ০৮ বছর সে মাদ্রাসায় ২য় শ্রেনীতে অধ্যয়নরত। শিশুটি রাতের বেলায় বিভিন্ন প্রকার দু:স্বপ্ন দেখে কান্নাকাটি করত।  বিভিন্ন প্রকার কবিরাজি চিকিৎসা করে ভালো না হওয়ায় ভিকটিমের বাবা জানতে পারে যে, অভিযুক্ত মো. ফজলুর রহমান ওরফে রফিকুল ইসলাম দীর্ঘ দিন যাবৎ ঝাড়ফুঁক ও পানিপরা দেয়। এরই প্রেক্ষিতে শিশুটির পিতা  শিশুটিকে এর আগে ২ থেকে ৩ বার ধর্ষক ফজলুর রহমানের কাছে ঝাড়-ফুকের জন্র নিয়ে যায়।এতে তেমনকোনো  উপকার না হওয়ায় ধর্ষক ফজলুর রহমান ভিকটিমের বাসায় গিয়ে (বাড়ী বন্দি) নামক চিকিৎসা করে আসে। ঘটনার আগের দিন মাগরিবের সময় শিশুটির বাবা ধর্ষক ফজলুর রহমানকে ফোন দিয়ে মেয়ের চিকিৎসার ব্যাপারে জানতে চাইলে  সে পরের দিন ফজরের আযানের সাথে সাথে মসজিদে আসতে বলে। কথা অনুযায়ী পরের দিন সকালে শিশুটির বাবা মেয়ে শিশুটিকে নিয়ে মসজিদে চলে আসে। ফজরের নামাজের পর ধর্ষক শিশুটি তার বাবাকে নিয়ে মসজিদের ৩য় তলায় ইমামের বেড রুমে নিয়ে যায়।

র‌্যাব আরো জানায়, হালকা ঝাড়ফুঁক করে পরিকল্পিতভাবে শিশুটির বাবাকে  এক প্যাকেট আগরবাতি ও একটি মোমবাতি আনার জন্য বাহিরে পাঠিয়ে দেয়।অপরদিকে মসজিদের মোয়াজ্জিন কে ফোন করে নিচের গেটে তালা লাগিয়ে দিতে বলে।

শিশুটির বাবা আগর বাতি ও মোমবাতি আনতে যাওয়ার পরপরই শিশুটির দুই হাত পিছনে বেধে ও মুখে টেপ মেরে শিশুটিকে ধর্ষন করে।ধর্ষনের প্রমান মুছে ফেলতে মসজিদের ছাদে নিয়ে শিশুটিকে পানি দিয়ে পরিস্কার করে দেয়। এরপরে শিশুটির গলায় ছুরি ধরে তার বাবা মাকে না বলার হুমকি দেয় এবং বললে জবাই করে ফেলবে বলে হুশিয়ার করে। শিশুটি অসুস্থ হয়ে গেলে তাড়াহুড়া করে তার বাবাকে বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় করে দেয়। এর পরে শিশুটি বাসায় গিয়ে তার বাবা মাকে সবকিছু খুলে বললে এবং ধীরে ধীরে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হওয়া শুরু করলে ভূক্তভোগী পরিবারটি শিশুটিকে নিয়ে মসজিদে এসে বিচার দিলে মসজিদ কমিটির কিছু সংখ্যক লোক ও আশে পাশের ধর্ষকের কিছু ভক্ত মিলে সেখানেও শিশু ও পরিবারটিকে মারাত্বক ভাবে হেনস্থা করে।

ধর্ষক ফজলুর রহমান তার অনুসারীদের দিয়ে ধর্ষিত মিশুটির বাড়ীর বাইরে  পাহাড়া বসায় যাতে করে  পরিবারটি যেন থানা বা হাসপাপতালে যেতে না পারে। এরপর শিশুটির অবস্থা আরো খারাপ হলে শিশুটিকে নিয়ে শিশুটির পরিবারটি নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চুপি চুপি ভর্তি করলে। ধর্ষক ফজলুর রহমান ও তার অনুসারীরা শিশুটিকে হত্যা ও অপহরণ করার উদ্দেশ্যে কয়েক দফায় চেষ্টা চালায়। হাসপাতালের ধর্ষকের অনুসারীরা হাসপাতালের এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যে শিশুটিকে হাসপাতালে লুকিয়ে রেখে শিশুটির বাবামাকে দীর্ঘসময় ধরে হাসপাতালের টয়লেট ও বেডের নিচে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে এরই এক পর্যায়ে শিশুটির বাবা হাসপাতালের নার্স এর বোরকা পড়ে র‌্যাব অফিসে এসে অভিযোগ দেয়।

SHARE